অর্থ ও ব্যবসায় প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

অর্থ ও ব্যবসায় প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

Advertisement

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির প্রোক্ষাপটে অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ এখন যতটা না রাজনীতিমুখী তার চেয়ে বেশি মাথা ঘামায় অর্থনীতি নিয়ে। বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া এই অর্থনীতিমুখীনতায় যোগ করেছে মাত্রা। এক সময় বিশ্ব রাজনীতি আবর্তিত হতো সামরিক কূটনীতি দ্বারা । আর এখন সেখানে অর্থনৈতিক কূটনীতি জায়গা দখলের করে নিয়েছে।

তাই দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি থেকে শুরু করে একেবারে সাধারণ মানুষটিও দৈনন্দিন অর্থনীতির খবরাখবর রাখতে আগ্রহী। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্যের খবর, শেয়ার বাজার, ব্যাংকিং,আমদানি-রফতানির অবস্থা প্রভৃতি সবকিছু সম্পর্কেই মানুষ খোঁজখবর রাখতে চায়। অর্থনীতির প্রতি মানুষের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণেই বাড়ছে অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকতার গুরুত্ব এবং এক্ষেত্রে সাংবাদিকের চাহিদা।

সাধারণ সংবাদপত্রের সংবাদ লেখা থেকে অর্থ ও ব্যবসা সংবাদ লেখার মধ্যে মোটামুটি ভাবে বিশেষ কোন ও পার্থক্য নেই ।

কিন্তুু সুক্ষ্ণভাবে দেখতে গেলে, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে, যেটি অর্থ ও ব্যবসায় সংবাদের প্রতিবেদক এবং সহ- সম্পাদকদের প্রতি মুহূর্তে খেয়াল রেখে কাজ করতে হয়।

অর্থ ও ব্যবসায় প্রতিবেদন
অর্থ ও ব্যবসায় প্রতিবেদন

সাধারণ সংবাদপত্রে সর্বাধিক প্রাধান্য পায় দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংবাদ। প্রতিদিন পাঠক বর্গ এইসব সংবাদ কমবেশি পাওয়ার ফলে, সাধারণ সংবাদপত্রে রাজনৈতিক প্রতিবেদকরা যে কোন অর্থ ও ব্যবসায় সংবাদ প্রতিবেদক অপেক্ষা অনেক সুবিধাজনক অবস্থায় কাজ করতে পারেন।

কারণ এ বিষয়ক কোন সংবাদ পড়ার আগেই ঘটনার পশ্চাদপট সাধারণ পাঠকের জানা থাকে। কিন্তুু অর্থ ও ব্যবসা সংবাদ সম্পর্কে সাধারণ পাঠকের ঐ ধরনের কোন ও পূর্ব প্রস্তুুতি থাকে না। এই কারণে , যে কোন ও অর্থ ও ব্যবসা সংবাদ সম্পর্কে প্রতিবেদক বা সহ সম্পাদককে সর্তক হতে হয় যে বাণিজ্য অর্থ ও ব্যবসা সংবাদের প্রতি কীভাবে তিনি পাঠকের দৃষ্টি আর্কষণ করবেন ।

আরো জানুন…..অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

অবশ্য, চালের দাম, দুধের দাম, তেল বা রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লে পাঠককে সংবাদের প্রতি আকৃষ্ট করতে কষ্ট হয় না। রেলভাড়া, বাসভাড়া, বা ডাকমাশুল বৃদ্ধির সংবাদ পাঠকের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যে এসব সংবাদে পাঠকের সবসময় আগ্রহ বর্তমান।

তারপরও অর্থ ও ব্যবসায় সাংবাদিকের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবা কার্যের দাম বা ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে সংবাদ লেখার ও পাঠকের পরিতৃপ্তির জন্য –

১.গত দুই -পাঁচ বছরের তুলনামূলক দাম বা ভাড়ার উল্লেখ করতে হয় ,

২.বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়,

৩.শিল্প -বাণিজ্য সংস্থা এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোর প্রতিক্রিয়া জানাতে হয় এবং সম্ভব হলে,

৪.জনগণের বিভিন্ন স্তরের মানুষের -গৃহবধূ ,অফিস কর্মী,ইত্যাদির সাক্ষাৎকার দিয়ে সাংবাদটিকে সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশন করতে হয়।

আর ব্যাপ্ত অর্থনৈতিক সংবাদ ব্যষ্টিগত সংবাদ পরিবেশনের সময়- যেমন, যোজনা( বরাদ্দ, প্রতোক্ষ কর, বাজেট, ভোগ্যপণ্যের, উপর কর বৃদ্ধি ,শিল্প – ব্যবসায়ে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ কিংবা পূর্বতন বিধিনিষেধ লোপ ইত্যাদির ক্ষেত্রে পাঠকের সুবিধার্থে প্রথম অনুচ্ছেদে মূল সংবাদের সারাংশ দেবার পর দ্বিতীয় বা তৃতীয় অনুচ্ছেদেই সংক্ষেপে ঘটনার পশ্চাদপট পরিবেশন অবশ্য প্রয়োজনীয়।

Advertisement

সংবাদ সূত্র উল্লেখ প্রতি সংবাদের অপরিহার্য অঙ্গ। একাধিক দিন ধরে কোন কোন সংবাদের পুনরাবৃত্তি কিংবা ঘটনার বিকাশ ঘটে থাকে। যেমন -বাজেট বির্তক, শেয়ার বাজারের অস্বাভাবিক পতন, শিল্প -বাণিজ্যর ক্ষেএে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ঘোষণা ও তার পরবর্তী বির্তক, বন্ধ বা রুগ্ন কারখানা খোলার বিষয়ে দ্বি-পাক্ষিক ত্রিপাক্ষিক আলোযচনা, একচোটিয়া পুঁজি কিংবা বিদেশি পুঁজি কর্তৃক কোন শিল্প বা ব্যবসার অধিগ্রহণ , কোন বিশাল বাঁধ বা নগর নির্মাণ বিরোধী পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলন।

এই ধরনের আলোড়নকারী সংবাদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী দিনের ঘটনার সারাংশ পরিবেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পাঠকের সম্মুখে আগাগোড়া ঘটনার অগ্রগতি তুলে ধরার জন্য।

এরপরও, সব অর্থ ও ব্যবসায় সাংবাদিকের সামনে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে যায়। অর্থনৈতিক সংবাদের অন্তর্নিহিত গতি-প্রকৃতি সম্পর্কেও পাঠককে যথাসম্ভব অবহিত করা বাণিজ্য সাংবাদিকের কর্তব্য।

কারণ, সাধারণ পাঠক প্রায়ই কোন নতুন অর্থনৈতিক ঘটনা বা সরকারি পদক্ষেপের তাৎপর‌্য নিছক সংবাদ বিবরণ থেকে আহরণ করতে অক্ষম । সেক্ষেত্রে সংবাদের তাৎপর‌্য বোঝানোর দায় বাণিজ্য সাংবাদিকের।

কেবল লক্ষ্য রাখতে হবে, অর্থ ও ব্যবসায় সংবাদ পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করতে গিয়ে প্রতিবেদন আর সম্পাদকীয়কে যেন মিশিয়ে ফেলা না হয়।

উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে লক্ষণীয়, বাণিজ্য অর্থ ও ব্যবসায় সংবাদের প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট সহ-সম্পাদককে একসঙ্গে পরস্পর আলোচনা করে প্রতিবেদনের সম্পাদনা করতে হয়।এবং উপরোক্ত বিষয়গুলো উভয় ব্যক্তিকেই যথাসম্ভব সতর্কতার সঙ্গে পালন করতে হয়।

50% LikesVS
50% Dislikes

Write a Comment

Share It