অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতা কি । অ্যাডভোকেসি ও ট্রোভিশনাল সাংবাদিকতার বিরোধ

অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতার সংঙ্গে ট্রোভিশনাল সাংবাদিকতার কী কোন বিরোধ আছে

অ্যাডিভোকাসি রির্পোটিং কীভাবে ট্রোমিশনার রির্পোট হতে ভিন্ন

অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতা কি

when objective journalism days into cowardly neutrality between truth and lies, we need advocacy journalism to lift own profession back to credibility (Niles-2011)

Advertisement

অ্যাডভোকেট যেমন অন্যের পক্ষে সহায়ক হিসাবে কাজ করেন, তাকে পরামর্শ দেন এবং তার সাফল্যের জন্য আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করেন অ্যাডভোর্কেট জার্নালিষ্টও তেমনি প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সহ জনস্বার্থে সংবাদ মাধ্যমকে কাজে লাগান।

সংবাদকে তিনি সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে যুক্ত করে উপস্থাপন করেন।এই ধারার সাংবাদিকতা জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। সাংবাদিকতার প্রচলিত নিরপেক্ষতার ধারণার বিপরীতে এ ধারার সাংবাদিকতার অবস্থান।

অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতার সংজ্ঞা

Advocacy শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন Advoca থেকে, যার অর্থ তৃণমূলের কন্ঠস্বর, অ্যাডভোকেসির বাংলা প্রতিসাবদ রয়েছে বেশি কয়েকটি ওকালতি, দেন- দরবার, অধিবক্তা, অধিপরার্মশ ইত্যাদি। যার মধ্যে ওকালতি শব্দটিই সাংবাদিকতার সাথে জড়িত হয়ে ওকালতি সাংবাদিকতার উদ্ভব ঘটেছে। যে সাংবাদিকতার মূলত মূল ধারাযর সাংবাদিকতা হতে অনেকটাই আলাদা ভিন্নধমী।

ওকালতি সাংবাদিকতা হল জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনালোচিত, না বলা বিষয়গুলোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া, যা মূল ধারার গণমাধ্যমে উঠে আসেনা, অন্যভাবে বলা যায়, ওকালতি তথা advocacy journalism হলো- voice of the voiceless people.

উইকিপিডিয়ার ওকালতি সাংবাদিকতার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে – Advocacy journalism is a genere ( ধরন) of journalism. That is tact base,but suppose a specific point of view on an issue.

মূলত মিডিয়া এ্যাডভোকাসির ধারণা থেকেই জন্ম নিয়েছে অ্যাডভোকাসি জার্নালিজাম। মিডিয়া অ্যাডভোকাসির সংজ্ঞা সাথে এর মিল লক্ষ্যনীয় । বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যানে সচেতন ব্যক্তি বা সংগঠন জননীতি প্রনয়ন বা সংস্কারের লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে যখন সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তখন তা মিডিয়া অ্যাডভোকাসি নামে অভিহিত হয়। অন্যদিকে যখন কোন সাংবাদিক পেশাদারি দৃষ্টিকোণ থেকে জনকল্যাণে জনমানুষের সচেতন সৃষ্টি ও জননীতি সংস্কার বা প্রনয়নের ক্ষেত্রে লেখা লেখি করেন তা অ্যাডভোকসি জার্নালিজম নামে অভিহিত হয়।

অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতা কি
অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতা কি

অ্যাডভোকসি জার্নালিজমের বৈশিষ্ট্য

১ ইস্যু ভিত্তিক সাংবাদিকতা

অ্যাডভোকসি সাংবাদিকতা হচ্ছে – ইস্যু ভিত্তিক সাংবাদিকতা। এখানে ইস্যুকে কেন্দ্র করে রিপোর্ট করা হয় এবং এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রিপোর্ট চলতে থাকে।

২. গতানুগতিক সাংবাদিকতার গন্ডি অতিক্রম

কেবলমাত্র ঘটনার বনর্ণা, ব্যাখ্যা ও অনুসন্ধানের মধ্যে অ্যাডভোকসি জার্নালিজমের ধারণা সীমাবদ্ধ নয় বরং বিবৃত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে অ্যাডভাকসি জার্নালিজম।

Advertisement

৩. অর্থনৈতিক,সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রাধান্য

ধর্ম, বর্ণ, গোত্র,শ্রেণি নির্বিশেষে সমস্যা পীড়িত জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিক সমস্যা নিয়ে কাজ করাকে প্রাধান্য দেয় এ ধারার সাংবাদিকতা।

৪. জনকল্যাণ

জনকল্যাণ ও জনস্বার্থ রক্ষা করাই এর মূল লক্ষ্য।

৫. জনঅংশীদারিত্ব মূলক

এ ধরনের সাংবাদিকতায় অবশ্যই জনঅংশীদারিত্ব থাকতে হবে।

৬,প্রায়োগিক দিক বিশ্লেষণ

সমস্যার কারণ, বিশ্লেষন ও সমাধানের জন্য ভুক্তভোগী মানুষ, বিশেষজ্ঞ মহল ও সুশীল সমাজের মতামত সংবাদ প্রতিবেদনে তুলে ধরে।

৭, রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত

স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হয়ে জনকল্যাণ ও সামাজিক অগ্রগতির স্বার্থে কাজ করার জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপকার ভোগী জনগণের সমর্থন লাভ করে থাকে অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতা।

৮, পক্ষ – বিপক্ষ স্পষ্ট :

ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা না করে জনগনের পক্ষ অবলম্বন করে।এখানে পক্ষ বিপক্ষ স্পষ্ট।

৯, জনমত সৃষ্টি ও সরকারের চাপ

জনমত সৃষ্টির জন্য অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতা ফলাও করে সাংসদ প্রচার করে।

১০, সুশাসন নিশ্চিতকরন :

সমস্যা সমাধানের জন্য ভুক্তভোগী জনগণের ভাবনাকে সরকারী নীতির আওতায় বাস্তবায়ন বা জননীতি গঠন করে সুশাসন নিশ্চিতকরণে ব্রতী থাকে অ্যাডভোকেসি সাংবাদিক

আরো জানুন………অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতা । প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব 

বিরোধ : ট্রেভিশনাল ও ওকালতি

ওকালতি সাংবাদিকতার সাথে ট্রেভিশনাল সাংবাদিকতার বিরোধ বিদ্যমান। কেননা এখানে ট্রেভিশন সাংবাদিকতা সত্যের আবরণে মিথ্যা এবং ন্যায়ের চর্চায় নামে অন্যায়ের লালন করে সেখানে ওকালতি সাংবাদিকতা দৃপ্ত কন্ঠে কোন ছলাকলা ছাড়াই সত্যের জয় গান গেয়ে যায় । ওকালতি সাংবাদিকতা মুলত ক্ষমতাসীন, অভিজাত তথা অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে পরোক্ষ ভাবে ট্রেভিশনাল সাংবাদিক তারই বিরোধিতা করে। সহজ ভাষায় বলা যায় যে,ট্রেভিশনাল এবং ওকালতি সাংবাদিকতার মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান।

নিন্মে টেভিশনার ও ওকালতি সাংবাদিকতার মধ্যেকার পাথর্ক্য তুলে ধরা হল-

ওকালকি সাংবাদিকতা :

১, বিকল্প ধারার সাংবাদিকতা

২, প্রতিবেদনে মতামত বিদ্যমান

৩, কোন বিষয়ের পক্ষে – বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান

৪, তৃণমূলের কন্ঠ স্বর

৫, প্রান্ত ও কেন্দ্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে

৬, একটি ইস্যুতে অবিচল থাকে

৭, গুজবের কোন স্থান নেই

৮, পরিসর ও ধারণাগত ভাবে ছোট

৯, প্রভাবন হয় ইতিবাচক

১০, জনগণের অংশীদারিত্ব পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান

ট্রেভিশনাল সাংবাদিকতা :

১, মূলধারার সাংবাদিকতা

২, মতামতহীন বস্তুনিষ্ঠা

৩, অবস্থান অস্পষ্ট ও নিরপেক্ষ

৪, এলিটরা প্রাধান্য পায়

৫, প্রান্ত ও কেন্দ্রের মধ্যে সংযোগ স্হাপন সম্ভব হয় না

৬, বিষয় ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তনশীল

৭, গুজব অনেক সময় চোখে পড়ে

৮, পরিসর ও ধারণাগত ভাবে বড়

৯, প্রভাবন নেতিবাচকও হতে পারে

১০, জনগণের অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আছে

100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It