আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ তত্ত্ব । Interpersonal Attraction theory

সুধা মহাজন

আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ তত্ত্ব Interpersonal Attraction theory

প্রত্যেক মানুষ জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যোগাযোগের সাগরে ডুবে থাকে। যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে বিভিন্ন রকমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। কেন এবং কীভাবে মানুষ এসব সম্পর্ক গড়ে তোলে তা জানার আগ্রহ থেকে যোগাযোগবিদগণ নানা গবেষণা কার্য পরিচালনা করেছেন। তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন। এরূপ একটি তত্ত্ব হল আন্তর্ব্যক্তিক আকর্ষণ তত্ত্ব। নিম্নে এটি আলোচনা করা হল-

Advertisement

Attraction theory ( আকর্ষণ তত্ত্ব)

আকর্ষণ তত্ত্বের মূল বিষয় হল এই যে, ব্যক্তিগণ পরষ্পরের প্রতি আকর্ষণ থেকে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়। ব্যক্তিগণের পরষ্পরের মধ্যে আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি কতকগুলো সূচক এর আলোকে আলোচনা করা যায়। এগুলো নিম্নরূপ –

Similarly সাদৃশ্যতা

সাধারণ ভাবে একজন মানুষ সেই ব্যক্তির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে যার সাথে তার সাদৃশ্য রয়েছে। এই সাদৃশ্য হতে পারে জাতীয়তা, গোত্র, সক্ষমতা, শারিরীক গঠন, বুদ্ধিমত্তা ও আচরণের দিক থেকে। একারণেই একই ক্লাসের সহপাঠীদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, সমবয়সী মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ভিন্ন বয়সী মানুষের তুলনায় অধিক গাঢ় হয়। প্রবাসে নিজ দেশের অভিবাসীদের মাঝে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যদিও অনেকে তার বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ব্যক্তির প্রতি আকর্ষিত হয় যাকে complementary বলা হয়। যেমন – অনেক সময় দেখা যায় একজন ব্যক্তি যিনি কম কথা বলেন তিনি এমন একজন যিনি অপেক্ষাকৃত বেশি কথা বলেন তার প্রতি আকর্ষিত হন।যদিও সাধারণভাবে মানুষ সাদৃশ্যতাই বেশি পছন্দ করে।

proximity নৈকট্য

মানুষ সাধারণত তার কাছাকাছি অবস্থানকারী ব্যক্তিদের প্রতি আকর্ষিত হয়। মূলত কাছাকাছি অবস্থানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। তাই এই ধরনের ব্যক্তিগণ পরষ্পরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করার সম্ভাবনাও বেশি। যেমন – বাড়ির আশেপাশের প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক, অফিসের সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি।

আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ
আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ

Reinforcement ( প্রণোদনা)

সাধারণভাবেই একজন ব্যক্তি সেই অপর ব্যক্তির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে যিনি তার কাজে অনুপ্রেরণা বা উৎসাহ দিয়ে থাকেন। এই অনুপ্রেরণা কোন উপহার প্রদানের মাধ্যমে হতে পারে অথবা মানসিকভাবে সাহস যোগানোর মাধ্যমেও হতে পারে। আবার অন্যভাবে দেখতে গেলে মানুষ সেই ব্যক্তির কাজে অনুপ্রেরণা দেয় বা উপকার করে যাকে সে পছন্দ করে। অর্থাৎ , যাকে সে মনযোগ পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করে। যেমন – একজন মানুষ তার বন্ধুর কাজে যতটা উৎসাহ দেয়, তার বন্ধু নয় এমন সহপাঠীদের কাজে ততটা দেয় না। কেননা, সে বন্ধুর প্রতি যতটা আকর্ষণ অনুভব করে ততটা অন্যদের প্রতি করে না।

Physical attractiveness & personality শারীরিক গঠনগত সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব

একথা একেবারে সত্য যে একজন ব্যক্তির সুন্দর শারীরিক গঠন ও তার ব্যক্তিত্ব অন্য মানুষকে নিজের প্রতি আকর্ষিত করার সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা রাখে। সাধারণত মানুষ শারীরিক গঠনের দিক থেকে সুন্দর এমন ব্যক্তির প্রতি অধিক আকর্ষণ বোধ করে। আবার এ সৌন্দর্যের বিষয়টি সংস্কৃতি ভেদে ভিন্ন হতে দেখা যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, মুখমন্ডলের গঠনগত এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা সারা পৃথিবীর মানুষের কাছেই আকর্ষণীয়। অপরদিকে মানুষ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়।

Know More……….আন্তঃব্যক্তিক দ্বন্দ্ব কী | আন্তব্য‌ক্তিক সম্পর্কে কেন দ্বন্দ্ব সংগঠিত হয়

Socio-economic & educational status আর্থ সামাজিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা

সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারীরা সেসব পুরুষের প্রতি আকর্ষিত হন যাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান উঁচু পর্যায়ে, যা পুরুষের ক্ষেত্রে একেবারে উল্টো। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠার প্রথম ধাপ হল আকর্ষণ। জন্মসূত্রে পাওয়া সম্পর্ক বা কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক ছাড়াও মানুষ বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার নানা সম্পর্ক গড়ে তোলে। মূলত এসব সম্পর্ক তৈরি হয় পারষ্পরিক আকর্ষণ থেকে। এই পারষ্পরিক আকর্ষণ জন্মানোর ক্ষেত্রে গুলোই আলোচিত হয় এই তত্ত্ব এ।

Advertisement

লেখক : শিক্ষার্থী

৩ য় বর্ষ ( ২৪ তম ব্যাচ )

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It