গণমাধ্যমে নিম্নবর্গের উপস্থাপন পক্ষপাতদুষ্টু

গণমাধ্যমে নিম্নবর্গের উপস্থাপন পক্ষপাতদুষ্টু

বর্তমানে মূল ধারার মিডিয়া গুলোতে সামাজিক শ্রেনী বিশেষ করে, নিম্নবর্গের শ্রেনীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে আমেরিকান সমাজে বেশ কয়েকটি গবেষনা পরিচালিত রয়েছে।

Advertisement

বেশীরভাগ গবেষণা পরিচালিত হয় বিভিন্ন নাটকের উপর। সংবাদ , টকশো ও অন্যান্য বিষয় উপেক্ষিত। এগুলো আবার টিভি অনুষ্ঠানে লিঙ্গের ভূমিকা বিষয়ক। কিন্তু শ্রেনী সংক্রান্ত গবেষণা হয়েছে খুবই কম। জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে গবেষকরা বিভিন্ন কারনে কমেডি নাটকের উপর এসব গবেষনা করেন।

১৯৭৭ সালে Journal of communication এ প্রকাশিত Lynn Berk. তার নিবন্ধে উল্লেখ করেন Archie Bunker নামের এক নিগ্রো ব্যক্তি কমেডির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেখানে শ্রমিক শ্রেনীকে, বোকা নির্বোধ, দরিদ্র এবং নিষ্পেষিত, যোগ্যতাহীন হিসেবে দেখানো হয়েছে। গবেষকরা টেলিভিশন নাটকের প্রকৃতি সম্পর্কে গবেষণা করেন। তারা চরিত্রগুলোকে লিঙ্গ, বয়স, বর্ণ, পেশা প্রভৃতি শ্রেনীতে বিভক্ত করেছেন। মাঝে মাঝে এসব প্রতিকৃতির প্রকৃতি মূল্যায়ন করেছেন।

গণমাধ্যমে নিম্নবর্গের উপস্থাপন
গণমাধ্যমে নিম্নবর্গের উপস্থাপন

১৯৫০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত যেসব গবেষণা পরিচালিত হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিডিয়া চরিত্রগুলো শাসিত শ্রেনীর উপস্থিতি বেশি এবং নিম্নবর্গের নগন্য। যেখানে অন্যান্য চরিত্রগুলোর চেয়ে বেশি দেখানো হয়- উদ্ভাবিত, উচ্চমধ্যবিত্ত শেতাঙ্গ পুরুষদের। এবং টেলিভিশনের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো থেকে নিম্নবর্গকে সরিয়ে রাখা হয়। এটাকে জর্জ গবের্নার প্রতীকী বিনাশ বলেছেন প্রাধান্যশীল সাংস্কৃতিক পেক্ষাপটে শ্রমিক শ্রেনীকে অদৃশ্য করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাদের ভূমিকাকে তুচ্ছ করে দেখানো হয়।

কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোতে উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেনীর প্রাধান্যশীল ভূমিকা নিরবিচ্ছিন্নভাবে এই ধারনা দেয় যে উচ্চ মধ্যবিত্ত ছাড়া অন্যসব শ্রেনী সমাজের জন্য বিচ্যুতি। এতে করে সমাজে তাদের মূল্য কমে যায়। তাদেরকে অসামাজিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

টেলিভিশনে শ্রেনী বিভাজন অর্থাৎ শ্রেনী প্রাধান্যের উপর কয়েকটি গবেষণা করা হয়। এর মধ্যে আছে Ella Trylor এর Prime Time Families (1989) তবে, এ প্রসঙ্গে বিস্তৃতভাবে গবেষণা করেছেন রিযার্ড বার্চ, তিনি তার Clam and Gender  in four decades of television situation comedies এর একটি নিবন্ধে। যা ১৯৮২ এবং ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত Journal of Broadcasting এ প্রকাশ করেন। সেখানে US-Department of Health and Human services কর্তৃক Television and behaviour নামক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ১৯৪৬-১৯৯০ সাল পর্যন্ত কয়েকটি কমেডির উপর গবেষণা পরিচালিত হয়। এসব গবেষণায় দেখানো হয় শ্রমিক শ্রেনী সংখ্যায় বেশী হলেও মিডিয়ায় তাদের উপস্থিতি খুবই নগন্য।

ঐ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গড়ে ১৪ টি Situation Comedy এর একটিতে নিম্নবর্গের উপস্থিতি রয়েছে। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত শ্রমিক শ্রেনী নিয়ে কোন কমেডি তৈরী হয় নাই। এসময় মিডিয়ায় ছিল উচ্চ মাধ্যবিত্তদের প্রাধান্য। বার্চ গবেষণা করে দেখেন মিডিয়ায় এ প্রতিচ্ছবিগুলো শ্রেনী অনুযায়ী অপরিবর্তিত অবস্থানে‍ রয়েছে।

শ্রমিক শ্রেনী নিয়ে যে কমেডি সিরিয়ালগুলো তৈরী হয়, তার পুরুষ চরিত্রগুলো হয় অক্ষম, অযোগ্য, অসফল। প্রায়শ দেখা যায় ভূমিকাহীন বোকা প্রকৃতির।

আমেরিকান চলচিত্রে নিম্নবর্গের উপস্থাপনঃ

১) জীবনযাত্রার মান উপস্থাপন

২) অবরোধ ধর্মঘট অনুপস্থিত

৩) ইউনিয়নকে দুর্নীতিগ্রস্থ দেখানো

৪) On the waterfront (1954)

শ্রমিক শ্রেনী ও তাদের ফিল্মঃ

Advertisement

১) বিশেষায়িত ফিল্ম

২) শ্রমিকরা পশ্চিমে চলে যায়

৩) সায়েন্স ফিকশন ছবিও মুক্ত না

50% LikesVS
50% Dislikes

Write a Comment

Share It