ছোট দলীয় যোগাযোগ । সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও সংস্কৃতি

তাসলিমা ইরিন

ছোট দলীয় যোগাযোগ সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও সংস্কৃতি

ছোট দলীয় যোগাযোগ

Advertisement
কী
.
আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে একেকটি ছোট দলের একেকজন সদস্য। এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় পরিবারের কথা। তবে পরিবার ছাড়াও প্রত্যেকেই কোন না কোন দল, শ্রেণী অথবা বন্ধুসভার সদস্য। আমাদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে উপভোগ্য যোগাযোগসমূহের অনেকগুলোই ছোট ছোট দলের মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে।


যখন অল্প সংখ্যক ব্যক্তি কোন সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণের জন্যে একত্রিত হয়ে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরস্পরের সাথে যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তখন তাকে ছোট দলীয় যোগাযোগ বলে।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা

কোনভাবেই পাঁচের অধিক নয় এমন সংখ্যা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যখন একত্রিত হয়ে কোন নির্দিষ্ট আলোচনায় পরস্পরের মতামত আদান প্রদান করে এবং পরস্পরকে প্রভাবিত করে তখন তাকে ছোট দল বলা যায়। (Joseph Bonito)

তিন অথবা তার অধিক ব্যক্তি যখন কোন সাধারণ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অথবা পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল অথবা মিথস্ক্রীয়ার মাধ্যমে কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য একত্রিত হয়ে যোগাযোগ করে তখন তাকে ছোট দল বলে। (Wilson & Hanna, 1990)

ছোট দলীয় যোগাযোগ
ছোট দলীয় যোগাযোগ


ছোট দলীয় যোগাযোগের বিস্তৃতি সুবৃহৎ ও ব্যাপক। নিম্নে ছোট দলীয় যোগাযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল-

ছোট দল


ছোট দল বলতে একাধিক ব্যক্তির তুলনামূলক ক্ষুদ্র সমষ্টিকে বোঝায়, যারা পরস্পরের সাথে কোন সাধারণ উদ্দেশ্য দ্বারা যুক্ত থাকেন এবং কোন না কোন ক্ষুদ্র পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা তাদের মধ্যে কাজ করে।


উদাহরণস্বরূপ: কোন কোচিং এ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যখন গ্রুপ স্টাডি করে তখন তা ছোট দলীয় যোগাযোগে পরিণত হয়।
আবার, স্থানীয় পর্যায়ে যুবকদের মধ্যে এলাকাভিত্তিক কিছু ক্লাব গড়ে উঠতে দেখা যায়। এগুলোও ছোট দলীয় যোগাযোগের অন্তর্ভুক্ত। তবে মনে রাখতে হবে যে, সাধারণত ৭-১২ জন বিশিষ্ট দলকে ছোট দল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

আরো জানুন……………আন্তব্যক্তিক দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনা । দ্বন্দ্ব নিরস‌নের উপায় । Interpersonal Conflict Management

নিম্নে ছোট দলের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ পূর্বক বিষয়টি আরও বিশদভাবে আলোচনা করা যাক।

Advertisement

ছোট দলের বৈশিষ্ট্য

একটি ছোট দল,

প্রথমত, কয়েকজন ব্যক্তির সমন্বিত রূপ। সংখ্যায় তারা হবে যথেষ্ট কম যেন সকল সদস্যই একই সাথে বার্তার প্রেরক ও প্রাপক হিসেবে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতে পারে। সাধারণত, আনুমানিক ৭ থেকে ১২ জন সদস্য নিয়ে ছোট দল গড়ে ওঠে। এ কথা গুরুত্বের সাথে মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি সদস্যই যেন পরস্পরের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে বার্তা গ্রহণ ও প্রেরণের কাজ চালিয়ে যেতে পারে৷ সদস্য সংখ্যা ১২ এর বেশী হয়ে গেলে যা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ত, একটি ছোট দলের সদস্যদের অবশ্যই পরস্পরের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পর্কিত হতে হবে। একটি বাসের যাত্রীদেরকে কোন গ্রুপ বা দলের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না৷ অবশ্যই যতক্ষণ না পর্যন্ত বাসটি গর্তে আটকে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা তাৎক্ষনিকভাবে একটি দলে পরিণত হয়ে বাসটিকে রাস্তায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হচ্ছে৷ কেবল তখনই তাদের একটি দল বলা যাবে। একটি ক্ষুদ্র দলে, একজন সদস্যের আচরণ অন্য সদস্যদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এর মানে এই নয় যে, প্রতিটি সদস্যকে ওই দলের সদস্য হওয়ার জন্য হুবহু একই উদ্দেশ্য পোষণ করা আবশ্যক। বরং কোন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনগুলোর মধ্যে কিছু কিছু সাদৃশ্য থাকা আবশ্যক।

তৃতীয়ত, সদস্যরা কোন না কোন প্রাতিষ্ঠানিক নীতি বা গঠন প্রণালীর দ্বারা সম্পৃক্ত হতে হবে। কিছু কিছু সময়ে এর গঠন প্রণালী হতে হবে কঠোরভাবে নিয়ম ও নীতিমাফিক। অন্যান্য ক্ষেত্রে, যেমন কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে, এর গঠনপ্রণালী হতে পারে অত্যন্ত ঢিলেঢালা। তবু দুই ধরনের দলের নীতিমালাতেই কোন না কোনভাবে একই ধরনের কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্য থাকে।

যেমন- দুইজন মানুষ একই সাথে কথা বলতে পারবে না, একজন সদস্যের মন্তব্য বা প্রশ্নের উত্তর দিতেই অন্যরা তৎপরতা দেখাবে, উপেক্ষা করতে নয়- এরকম আরও অনেক।

ছোট দলীয় যোগাযোগ সম্পর্কে বিশদ পড়াশোনা করার আগে, “দলীয় আলোচনায় আপনি কতখানি যোগাযোগ শঙ্কার মুখোমুখি হন?”- শীর্ষক একটি আত্মসমীক্ষায় নিজের অবস্থান জেনে নিলে একজন শিক্ষার্থীর জন্য তা ফলপ্রসূ হবে।

ছোট দলীয় সংস্কৃতি


এমন অনেক দল, বিশেষত দীর্ঘস্থায়ী দল যেগুলো, যেমন কোন কাজের লক্ষ্যে গঠিত দলসমূহ নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী ছোট পরিসরের এক ধরনের সংস্কৃতি তৈরী করে নেয়। সেইসব নীতি বা আদর্শ বা আচরণের সমষ্টি থেকেই এইসব “নিয়ম” গড়ে ওঠে যেইসব আচরণকে যথাযথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন- বাড়তি কাজ মোকাবেলার সদিচ্ছা, মানুষকে কেন্দ্র না করে ইস্যুকে কেন্দ্র করে সমস্যা চিহ্নিত করা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ।

একইসাথে, যেসব আচরণকে যথাযথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না, সেগুলোও পড়ে এইসব নিয়মের মধ্যে। যেমন- দেরীতে কাজে আসা এবং সক্রিয়ভাবে কাজে অংশগ্রহণ না করা ইত্যাদি৷

কিছু কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ আচরণের এই নিয়মগুলো কোন প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও চুক্তিপত্রে স্পষ্টভাবে লিখে দেওয়া থাকে। যেমন: সকল সদস্যকে অবশ্যই বিভাগীয় মিটিংগুলোতে উপস্থিত থাকতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়মগুলি শিথিলযোগ্য করা হয়। যেমন- “সদস্যদের পরিপাটি থাকা প্রসঙ্গে”। এসকল নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হোক বা না হোক, দলের সদস্যদের আচরণ পরিবর্তনে এরা শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

লেখক : শিক্ষার্থী
মাস্টার্স (২২ তম ব্যাচ )
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It