জনযোগাযোগের মূল উপাদান । elements of public communication

জনযোগাযোগের মূল উপাদান Major elements of public communication

জোসেফ এ ডেভিটো বলেছেন, “Public  communication is may be defined as that form of communication in which a speaker addresses a relatively large audience with a relatively continuous discourse, usually in a face-to-face situation.”

জনযোগাযোগে দর্শক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথোপকথন ও জনযোগাযোগের পার্থক্য সাধারণত এখানেই। কথোপকথন হল দু-তিনজনের পরষ্পর আলাপচারিতা।

Advertisement

জনযোগাযোগে ১০-১২ থেকে শুরু করে কয়েক শত বা হাজার হতে পারে। এখানে বক্তা একপাক্ষিক ভাবে কথা বলে চলেছেন। কিন্তু শ্রোতা সমানভাবে কথা না বললেও সারা দেওয়া বা ফলাবর্তনের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ করে থাকে।

Learn More…… বক্তব্য দেওয়ার নিয়ম । বক্তব্য দানে প্রস্তুতির ধাপ 

জনযোগাযোগের মূল উপাদান
জনযোগাযোগের মূল উপাদান

কিছু মৌলিক উপাদানের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে জনযোগাযোগের গঠন ও ক্রিয়া প্রক্রিয়া। এ উপাদানগুলো হচ্ছে,


১. বক্তা
২. শ্রোতা
৩. প্রতিবন্ধকতা/কোলাহল
৪. প্রভাব
৫. পরিপ্রেক্ষিত
৬. বার্তা এবং বার্তাবাহী
৭. ভাষা ও ভাষাশৈলী
৮. উপস্থাপন
৯. নৈতিকতা/মূল্যবোধ

১) বক্তা (Speaker)

বক্তা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যাকে বলা হয় ‘বিনিময় কেন্দ্র’ (center of the transaction)। পুরো যোগাযোগের সার্বিক অবস্থা নির্ভর করে বক্তার উপর। বক্তব্যের উদ্দেশ্য,  বিষয়বস্তু, দৃষ্টিভঙ্গি, প্রভাবন ক্ষমতা, মৌলিক জ্ঞান ইত্যাদি প্রভাবক (catalyst) নির্ধারণ করবে বক্তা-দর্শক সম্পর্ক। বক্তাকে বুঝতে হবে তার বক্তব্য শুনতেই দর্শক জমায়েত হয়েছে।

২) শ্রোতা (Listener)

আলাদা আলাদা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে শ্রোতা শ্রেণী গড়ে ওঠে। যার সমন্বিত রূপই হচ্ছে অডিয়েন্স। এখানে প্রতিটি ব্যক্তি আলাদা ও স্বতন্ত্র। সবাই যার যার নিজস্ব অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তার বক্তব্য শুনতে আসে। সব শ্রোতার তার নিজস্ব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্বাস, প্রত্যাশা, কারণ কিংবা নীতি নৈতিকতা আছে, যার ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রোতা ভিন্ন ভিন্নভাবে বক্তার বক্তব্যের প্রতি উত্তর তৈরি করে।

৩) প্রতিবন্ধকতা (Noise)

বার্তা গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে যেসমস্ত বাধার সম্মুখীন হয় তা-ই প্রতিবন্ধকতা হিসেবে পরিচিত। এটি হতে পারে বস্তুগত বা মনস্তাত্বিক, কিংবা রূপক বা ভাষাগত অর্থে। বক্তাকে বুঝে নিতে হবে প্রতিবন্ধকতার উৎপত্তি এবং তা মোকবেলার উপায়।


যেমন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জোড় দিয়ে বলা, পারিভাষিক শব্দ ব্যাখ্যা করা, শারীরিক ভাষায় শ্রোতাকে মোহাবিষ্ট করে রাখা, সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা। এতে করে একটি উপভোগ্য পরিবেশে বক্তা ও শ্রোতার দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে। প্রতিবিন্ধকতার সম্ভাবনা কমে আসবে।

৪) প্রভাব (Effect)

Advertisement

একজন বক্তা সবসময় নিজের বক্তব্যটুকু এমনভাবে উপস্থাপন করবেন যাতে শ্রোতা সহজেই প্রভাবিত হন। একজন রাজনীতিবিদ তার বক্তব্যে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় শ্রোতাকে প্রভাবিত করে নিজের ভোট আদায় করে নেন। ঠিক তেমনি একজন শিক্ষক, সেলসম্যান কিংবা উপদেষ্টাও তা-ই করেন।


প্রত্যেক শ্রোতা স্বতন্ত্র মানসিকতার হওয়ায় তাদের সাড়াদান (response)-ও ভিন্ন ভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। কোনো শ্রোতা বক্তব্যের সবটুকুমেনে নেয়, কেউ আংশিক, আর কেউ একদমই মেনে নেয় না।

৫) পরিপ্রেক্ষিত (Context)

অন্যসব যোগাযোগের মত জনযোগাযোগে বক্তা এবং শ্রোতা একটি পরিপ্রেক্ষিত ধারণ করে যোগাযোগ করে। এটি হতে পারে বস্তুগত, সামাজিক, আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক। পরিপ্রেক্ষিত সবসময় বক্তা, শ্রোতা এবং বক্তব্যকে প্রভাবিত করে থাকে।


যেমন, কোনো ছোট কক্ষে বিশাল শ্রোতা, দর্শক না বুঝে বক্তব্য, পূর্বের বক্তার বক্তব্য পূণরায় উপস্থাপন কিংবা কোনো ধর্মীয় জায়গায় বস্তুগত, আর্থসামাজিক বা সাংস্কৃতিক এমন সাধারণ কোনো বিষয়ে কথা বলা বাধা হিসেবে কাজ করে।

একজন বক্তাকে সর্বদা মাথায় রাখতে হবে, কোন পরিপ্রেক্ষিতে সে বক্তব্য উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। তার শ্রোতা কারা, বক্তব্যস্থল, অনুষ্ঠানের শিডিউল কী, কোন বক্তা কী বক্তব্য রাখছেন প্রভৃতি।

৬) বার্তা ও বার্তাবাহী

বক্তার বক্তব্য যেমন শ্রোতার কাছে যায়, তেমন শ্রোতার সাড়াদানও বক্তার কাছে যেতে হবে। সম্পর্কটা বক্তা-শ্রোতা-বক্তা।


দুই বার্তাবাহীর মাধ্যমে এই বার্তা সঞ্চালিত হয়। শ্রবণ (Auditory), দর্শন (Visual)। প্রথমোক্ত চ্যানেলে শুধু শোনা যায়। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে পারষ্পরিক বিনিময়, শারীরিক ভঙ্গি সবকিছু দেখা যায়।

৭) ভাষা ও ভাষাশৈলী

বক্তাকে পূর্বেই চিহ্নিত করে নিতে হবে তার শ্রোতার সাথে তার সম্পর্ক কিসের। বন্ধুর সাথে যে ভাষাশৈলী অনুসরণ করা হয়, নিশ্চয়ই তা ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে সম্ভব নয়।

জনযোগাযোগে একজন বক্তাকে গুছিয়ে এবং খুব সাবলীল ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপন করতে হয়। এখানে যেহেতু বুঝিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই, কিংবা মাঝখানে বক্তব্য থামিয়ে ভিন্ন কোনো প্রসঙ্গ নিয়ে আসা যায় না, তাই বক্তার ভাষাশৈলী হতে হবে বোধগম্য (instantly intelligible)।


            লিখিত ভাষা থেকে কথ্য ভাষা আলাদা। জনযোগাযোগে বক্তাকে মৌখিক ভঙ্গি (oral style) অনুসরণ করতে হয়। গবেষণা করে দেখা গেছে বক্তব্যে লিখিত ধরণ হুবুহু অনুসরণ না করে  নিজস্ব ঢঙে মৌখিকভাবে উপস্থাপিত হলে তা সহজেই দর্শককে প্রভাবিত করে। (Akinns, 1982; Devito 1965-1970)।


কথ্য ভাষায় সাধারণত ছোট শব্দ, বাক্য ও পরিচিত পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। বক্তব্যে নিজস্বতার ছাপ থাকে। যেমন, আমি মনে করি, কেন মনে করি না…। সংখ্যাবাচকতাকে সামগ্রিক অর্থে প্রকাশ করে। যেমন, প্রত্যেক, সবাই, কেউ না, সর্বদা, অনেক, বেশী, কম এরকম সামগ্রিক টার্ম ব্যবহৃত হয়।

৮) উপস্থাপনা (Delivery)

জনযোগাযোগে উপস্থাপনা অন্যতম বিবেচ্য বিষয়, দৈনন্দিন আলাপচারিতায় খুব একটা গুরুত্ব রাখে না। এখানে সময় এবং অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। বক্তব্যের বিষয়বস্তু, শ্রোতার ধরণ, শারীরিক ভঙ্গি সবকিছু মিলিয়েই উপস্থাপনায় একজন দক্ষ অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে বক্তব্যের সঙ্গে শারীরিক চালনা মিলিয়ে নেন।

৯) নীতি-নৈতিকতা (Ethics)

নীতি-নৈতিকতা প্রত্যেক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ। জনযোগাযোগে নৈতিকতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, অনৈতিক বার্তার এমন আশংকা থেকে যায় যা শ্রোতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। (1978: Johannesen 1991)।


সাধারণত বক্তব্যে ভুল তথ্য পরিবেশন করা, শ্রোতাকে ভারসাম্যহীন ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা, অন্যের কথা-লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেওয়া নৈতিকতার বিরুদ্ধাচারণ।

কখনো বক্তা না জেনেও জানার ভান করে থাকে, নিজের নেতিবাচক দিককে লুকিয়ে রেখে সাধু সাজবার চেষ্টা করে– যা শ্রোতার চোখে সহজেই ধরা পড়ে। ফলে বক্তা সহজেই সমালোচনার মুখে পড়ে।
জনযোগাযোগের মূল উপাদান

100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It