নারী রাজনীতি ও গণমাধ্যম এর আন্তঃসম্পর্ক । women ,politics and the media

নারী রাজনীতি ও গণমাধ্যমের আন্তঃসম্পর্ক

নারী রাজনীতি ও গণমাধ্যমের আন্তঃসম্পর্ক কী? তুমি কি মনে কর আমাদের গণমাধ্যম নারীর প্রতি সংবেদনশীল?

Advertisement

নারী রাজনীতি ও গণমাধ্যম

গণমাধ্যমে নারী সম্পর্কে কিছু বলতে হলে মূলত দু’টি পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনা করা প্রয়োজন।

এক, নারীর প্রতি সমাজের মনোভাব।

দুই, সমাজের সাথে গণমাধ্যমের সম্পর্ক।

অর্থাৎ নারী সমাজ ও গণমাধ্যমের আন্তঃসম্পর্কের আলোকে আলোচনা করা হলে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারনা জাগতে পারে।া

পৃথিবীতে পুরুষশাসিত সমাজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যস্ত হচ্ছে নারীর ন্যায়সংগত অধিকার। তাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শেখানো হয় “তারা পুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট” সুতরাং সমাজে, রাষ্ট্রে এবং পরিবারে পুরুষের মত অধিকার তারা পাবেনা।

স্বাধীনতার পথে বিভিন্ন সমাজে নারী অনেকটা এগিয়ে গেছে। ভোটাধিকার লাভ থেকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করছে, তবুও নারীর প্রতি পুরুষের বা পুরুষ শাসিত সমাজের মনোভাব তেমন মৌলিক কোর পরিবর্তন হয়নি। বললেই চলে, বর্তমানে নারীর সামাজিক অবস্থা দেখলে বাঙ্গালীর প্রথা বিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের একটি কথা মনে পড়ে-

“গত দু’শো বছরে গবাদিপশুর অবস্থার যতোটা উন্নতি ঘটছে নারীর অবস্থার ততটা উন্নতি ঘটেনি”

– বাঙ্গালী প্রথা বিরোধী লেখক

হুমায়ুন আজাদ

প্রবচন গুচ্ছ

Read More………গণমাধ্যমে নিম্নবর্গের উপস্থাপন 

নারী রাজনীতি ও গণমাধ্যম
নারী রাজনীতি ও গণমাধ্যম

নারী রাজনীতি আন্তঃসম্পর্ক

পিতৃতন্ত্র, পুজিঁবাদ, গণমাধ্যম ও বিশ্বায়নের সাথে নারীর আর্থ-সামাজিক অবস্থাই হলো নারী রাজনীতি ও গণমাধ্যমের আন্তঃসম্পর্ক। অর্থাৎ গণমাধ্যমে উপস্থিত মা, স্ত্রী, শ্রমিক এবং বিজ্ঞাপনের চিত্র দেখলেই বুঝা যায় গণমাধ্যমের সাথে নারীর আন্তঃসম্পর্ক কেমন।

Advertisement

গণমাধ্যমে উপস্থাপিত নারী হচ্ছে সুদর্শনা, সুসজ্জিত এক রমণী, স্নেহপরায়ন মা ও নিষ্ঠাবান স্ত্রী। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ব্যাপারে সমান দায়িত্বশীল। সে যদি বাইরে কর্মরত হয়, তবুও তার সাংসারিক কাজকর্মে কোন বিঘ্ন ঘটে না বা ঘটা উচিত নয়। এর বিপরীতে নারীর অপর যে চিত্র পাই তা হলো খল নায়িকার।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিত্ব করে পুজিঁপতিদের তাই নারী প্রশ্নে গণমাধ্যমের অবস্থান হল নারীকে সিড়ি বানিয়ে বাজারে পণ্য বিক্রি করা। ক্ষেত্র বিশেষে পণ্যটিও বিক্রি করা। বিনিময়ে মাস শেষে নারীর হাতে কিছু টাকা তুলে দেয়া যা পতিতাবৃত্তির সমান।

গণমাধ্যমই ঠিক করে দেয় সমাজের সাথে নারীর চিত্র কেমন হবে। সিনেমার মাধ্যমে উপস্থাপন করে নারী কেমন হওয়া উচিত। আর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপস্থাপন করে নারী কি? গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে নারী যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তখন তিনি ঝগড়াটে মহিলা, যখন বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেন তখন তিনি খাদ্যবস্তু, যখন সিনেমায় অভিনয় করেন তখন হয়তো যৌনকর্মী অথবা মা, অথবা স্ত্রী অথবা খল নায়িকা।

নিন্মে গণমাধ্যমে নারীর অবস্থান তুলে ধরা হল:-

) বিজ্ঞাপনে নারী:

“Women’s body sales” এই গূঢ় তথ্যটি আবিষ্কার করেন আমেরিকার বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞগণ । এর পর থেকে শুরু হয়ে গেছে পন্য বিক্রির মাধ্যম হিসেবে নারীর মুখ ও শরীরকে যতটুকু সম্ভব নগ্নভাবে উপস্থাপন করা। বিজ্ঞাপনে নারীর স্টোরিও টাইপ ইমেজ তুলে ধরতেও তৎপর। কর্তব্যপরায়ন মা, সুচারু গৃহিনী এবং সুসজ্জিতা, সুদর্শনা , প্রেমময়ী স্ত্রী। ভোগবাদী সমাজের এই নারীরূপ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন বার বার প্রতিফলিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। মা তখনই পরিপূর্ণ যখন তার সন্তানের কাপড় ধবধবে পরিষ্কার, স্বাস্থ্য উজ্জল্যে ভরপুর, গৃহিনী তখনই স্বার্থক যখন যখন তার রান্নাঘর থেকে বাথরুম সব ঝকঝক, তকতক করছে বা নারী তখনই আদর্শ মা হয় যখন সারা দিনের কর্মতৎপরতার পরও সে শাসন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে ভোলেনা।

নারী শ্রমজীবী হতে পারে কিন্তু উৎপাদন প্রেক্ষিতে নারী ভোক্তা হিসেবেই বিজ্ঞাপনে আসে। “ওয়াইল্ড স্টোন” নামে পুরুষদের জন্য একটি সুগন্ধির বিজ্ঞাপনের কথা ধরা যাক। লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিহিতা নায়িকা হাতে পূজোর সামগ্রী, সেকালের জমিদার বাড়ির টানা বারান্দা দিয়ে যেতে যেতে অচমকা ছুঁয়ে ফেলে অত্যাধুনিক সাজপোশাকে সজ্জিত এক সুপুরুষকে। কে সে? সাবেকি জমিদার বাড়ির প্রেক্ষাপটে কী করে হঠাৎ উদয় হলো তার, এমন বেশভূষাই বা কী ঘোষনা করছে এসব জিজ্ঞেস করলে চলবে না।

মোদ্দা কথা হল, ঐ একটুকু ছোঁয়া লাগার সাথে সাথে ফাল্গুনি রচিত হল, তা কাল্পনিক নয়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আলোড়ন সৃষ্টি করেই টিভির পর্দায় তার উপস্থিতি। হ্যাঁ সম্পূণ ক্রিয়াটি নিশ্চয় দেখানো যায় না। তাই ক্রিয়ার চিহ্ন হিসেবে চিরপরিচিত কিছু টুকরো ছবির মাধ্যমে অভিক্ত দর্শক বুঝে ফেলেন।

নারী রাজনীতি ও গণমাধ্যম

) রেডিওটেলিভিশনে নারী:

রেডিওতে নারী কন্ঠে মুখরোচক গল্প এবং টেলিভিশনে নারীকে যতটুকু সম্ভব নগ্ন করে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

যেমন: এ.বি.সি. রেডিওতে, প্রেমরোগ, হৃদয় নার্সিং হোম, এবং টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন চিত্রে তা হরহামেশাই দেখা যায়।

) রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী:

সংসদ হোক, প্রধানমন্ত্রী হোক আর বিরোধী দলীয় নেত্রী হোক না কেন, নারী প্রশ্নে তাদের দেখানো হবে ঝগড়াটে মহিলা হিসেবে। তাদের অন্যসব কাজ বাদ দিয়ে এটি নিয়েই গণমাধ্যম উঠে পড়ে লাগে।

যেমন: সম্প্রতিকালে দু’নেত্রীর ফোনালাপ, মহিলা সংসদের বক্তব্য ইত্যাদি।

) সিনেমা এবং নাটকে নারী:

নারী বা নায়িকাকে ছলনাময়ী হিসেবে দেখানো হয়। নারী ছলনা করে তার কাজ হাসিল করে। হয়তবা ঠিক পন্থায় নারী কাজ করলে সে তা করতে পারবে না, এটাই দেখানো হয়। কিন্তু পুরুষ যে ঠিক ভাবে কাজটি করতে দেবে না সেই দুর্বলতাকে দেখানো হয় না।

যেমন-

 *বসের কাছ থেকে ছুটি পেতে বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাবার জন্য নারী কর্মচারীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাসি মুখে কথা বলতে হয়।

*নারীকে নারীর শত্রু হিসেবে দেখানো হয়। এবং প্রায়ই তা হয় কোন নায়কের ভালবাসা পাবার বিষয়কে কেন্দ্র করে।

*নারীর জগৎ বলতেই স্বামী আর সন্তান। কিন্তু সেই পুরুষের অন্যান্য বা প্রাক্তন প্রেমিকার প্রতি আসক্তি অন্যায় কিছু নয়।

*নারীর পরিচয় স্বামী ও সন্তানের নামে- মিতুর মা, রহমান সাহেবের স্ত্রী, মিসেস রহমান।

*নারীকে নাটক-সিনেমায় ভীতু হিসেবেই দেখানো হয়।

*নারীকে রূপচর্চাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

৫) সংবাদপত্রে নারীঃ

প্রতিটি সংবাদপত্রের নারী পাতায় যে বিষয় গুলো প্রাধান্য পায় বিশেষ করে, নারী কেন্দ্রীক বা নারী উপস্থাপিত বা নারী রচিত। তার রূপগুলো আমরা নিন্মরূপে ভাগ করব;

ক) নারী সংবাদ প্রধানত নির্যাতন কেন্দ্রীক

খ) রাষ্টীয় ফলশ্রুতিতে নারীর প্রতি সরকারি দাক্ষিণ্য বা ভিক্ষা

গ) নারীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

ঘ) রাষ্ট্রীয় বা উচু শ্রেনীর নারী সংবাদ অধিক্য

ঙ) যখন টাটকা রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রন প্রয়োজন তখন নারী নির্যাতন সংবাদকে প্রাধান্য দেয়া হয়, ভয়াবহ ছবিসহ।

50% LikesVS
50% Dislikes

Write a Comment

Share It