পরিকল্পনা কী | যোগাযোগ পরিকল্পনা চক্র । What is the Plan

পরিকল্পনা কী

 
পরিকল্পনা হচ্ছে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য বিভিন্ন বিকল্পের মধ্য থেকে সবচেয়ে সুবিধাজনক বিকল্পটি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া। এ কাজটি অত্যন্ত সচেতন ভাবে করতে হয় এবং এটা চলতেই থাকে। একটা পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন অপর পরিকল্পনার সাথে অর্থের সম্পর্ক একেবারে নিবিড়। 

Advertisement


সমাজভেদে পরিকল্পনা বিভিন্ন রকম হয়। ধনতান্ত্রিক সমাজে এক রকম, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয় ভিন্ন রকম। আবার পরিকল্পনা কেন্দ্রীভূত এবং বিকেন্দ্রীভূত হতে পারে। তবে সব পরিকল্পনার উদ্দেশ্যই ভবিষ্যত সম্পর্কে বলা বা পদক্ষেপ নেয়া। 


পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। এসব নীতিমালা প্রণীত হয় সমাজের সবক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনার মধ্য দিয়ে। প্রকারান্তরে বলা যায়, অত্যন্ত সচেতন ভাবে ই গৃহীত হয় এক একটি পরিকল্পনা

যোগাযোগ পরিকল্পনা চক্র


কতগুলো বিষয় সংশ্লিষ্টতা ছাড়া যোগাযোগ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা অসম্ভব । আমাদের জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট এই বিষয়সমূহের প্রধান কয়েকটি হচ্ছে কলা, বিজ্ঞান আর গণিত। আর এসব বিষয় এবং এগুলোর শাখা প্রশাখার সমন্বিত রূপই হচ্ছে যোগাযোগ পরিকল্পনা চক্র।

Alan Hancock তাঁর Communication planning for Development: An Operational Framework গ্রন্থেে যোগাযোগ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে একটি চক্রের কথা উল্লেখ করেছেন। যাকে যোগাযোগ পরিকল্পনা চক্র (Tier of Communication planning) বলা হয়। নিম্নে চিত্রের সাহায্যে চক্র টি তুলে ধরা হল। 

পরিকল্পনা কী


১ম চক্র 
যোগাযোগ পরিকল্পনার ভিত্তি হল এই চক্র। পরিকল্পনা প্রণয়নের এই চক্রটি তিনটি মৌলিক বিষয়ের সমম্বয়ে গঠিত। বিষয় তিনটি হল –
১. কলা বা মানববিদ্যা 
২. বিজ্ঞান
৩. গণিত

পরিকল্পনার যে কোন শাখায় কলা ও মানববিদ্যার ব্যবহার হয় এবং যোগাযোগ পরিকল্পনার সর্বস্তরে বিজ্ঞানের ব্যবহার অপরিহার্য। বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা লব্দ ধারণা যোগাযোগ পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও গণিতের অতিরিক্ত ব্যবহার রয়েছে। গণিতের ব্যবহার ছাড়া পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রায় অসম্ভব।

২য় চক্র 
একটি সমন্বিত যোগাযোগ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য দ্বিতীয় চক্রের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলা হলো – 
১.সমাজবিজ্ঞান
২. প্রযুক্তি 
৩. ফলিত গণিত ও পরিসংখ্যান 
বর্তমানে সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারণাগুলো নিয়েই যোগাযোগ পরিকল্পনা সাজানো হয়। বিভিন্ন সমাজের রীতিনীতি বিভিন্ন রকম। সব সমাজের রীতিনীতি জেনেই পরিকল্পনা করতে হয়। 
আবার যোগাযোগ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি বিভিন্ন সহায়তা করছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে দ্রুত তম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে।

পরিকল্পনা কী

50% LikesVS
50% Dislikes

Write a Comment

Share It