বাংলাদেশের পরিকল্পনা ব্যবস্থা । Planning system of Bangladesh

বাংলাদেশের পরিকল্পনা ব্যবস্থা Planning system of Bangladesh

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই স্বতন্ত্র পরিকল্পনা কাঠামো রয়েছে । বাংলাদেশেও পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও প্রশাসনিক কাঠামো বিদ্যমান । কিন্তু একদিনে এই কাঠামো গড়ে ওঠেনি । নানা পর্যায় অতিক্রম করে, অনেক পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এটা বিকাশ লাভ করেছে এবং সেই বিকাশমান ধারা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে । মূলত স্বাধীনতার অব্যাবহিত পরে বাংলাদেশের যে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রক্রিয়া শুরূ হয় তা মূলত পাকিস্থান আমলের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করেই গড়ে উঠেছিল ।

Advertisement

বাংলাদেশের পরিকল্পনা ব্যবস্থা : ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৫৩ সালে পাকিস্তানে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে পাঁচ বছর কার্যমেয়াদের জন্য পরিকল্পনা বোর্ড স্থাপন করা হয় । ১৯৫৭ সালে মার্কিন বিশেষজ্ঞ Bernerd L. Gladieux এর সুপারিশ অনুযায়ী এ বোর্ড কে স্থায়ী মর্যাদা দেওয়া হয় । এর নামকরণ করা হয় পরিকল্পনা কমিশন কমিশন ১৯৫৮ সালে কমিশনকে রাষ্ট্রপতি সচিবালয় এর অন্তর্ভুক্ত একটি বিভাগে রূপান্তরিত করা হয় । প্রেসিডেন্ট এই কমিশনের কার্যনির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতা পূর্ব দেশের উন্নয়ন ছিল সার্বিকভাবে পাকিস্তানি পরিকল্পনারই অংশ । পরিকল্পনা কমিশনের প্রাদেশিক পরিপূরক হিসেবে পূর্ব পাকিস্থানে একটা পরিকল্পনা বোর্ড ছিল । স্বাধীনতার পর এ বোর্ডকে আত্মীকরণ করে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয় ।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৩১ শে জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশন স্থাপনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয় ।১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর পরিকল্পনা কমিশনকে একটি মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে উন্নীত করা হয় । তখন পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন একজন অর্থনীতিবীদ । তিনিই ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের প্রকৃত কার্যনির্বাহী ।

১৯৭৫ সালে ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা কমিয়ে আনা হয় । ১৯৭৫ সালের পর এক্ষেত্রে দুই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক রদবদল হয় । বহিঃসম্পদ বিভাগকে পরিকল্পনা কমিশন এর বাইরে নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অংশ করা হয় । অন্যদিকে প্রশাসনিক বিভাগ কে আলাদাভাবে পরিকল্পনা বিভাগ করা হয় । ১৯৯২ সালে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের পর থেকে বর্তমানে পরিকল্পনার কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন প্রধানমন্ত্রী । ভাইস চেয়ারম্যান হলেন দুজন- পরিকল্পনা মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রী এবং সদস্য হচ্ছেন চার জন ।

বাংলাদেশের পরিকল্পনা ব্যবস্থা
বাংলাদেশের পরিকল্পনা ব্যবস্থা

বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রক্রিয়া

কোন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য সমূহ অর্জনের নীতি ও কৌশল সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগের জন্য একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা সংস্থা থাকে । এই কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সাংগঠিনিক কাঠামোর আওতায় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয় ।পরিকল্পনা প্রক্রিয়া একটি চক্রাকার কতিপয় ধাপের সমষ্টি । পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন ও সংশোধিত পরিকল্পনা তৈরি এবং পরবর্তীকালে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আবার নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন- এরূপ চক্রাকারে আবর্তিত হয় । সকল দেশেই এ ধাপগুলো অনুসৃত হয় । নিচে বাংলাদেশের পরিকল্পনার সাংগঠনিক কাঠামো তুলে ধরা হলো-

বাংলাদেশের পরিকল্পনা ব্যবস্থা

বাংলাদেশের পরিকল্পনার ধাপ

৬ টি ধাপে বাংলাদেশের জাতীয় পরিকল্পনা নীতি প্রণীত হয় । ধাপগুলো হলো –

১. প্রকল্প সনাক্তকরণ

২. কারিগরি নিরীক্ষা

৩. প্রকল্পের মূল্য নিরূপণ ও অনুমোদন

Advertisement

৪. তহবিল গঠন

৫. প্রকল্প বাস্তবায়ন

৬. জাতীয় নীতি প্রণয়ন

এর প্রত্যেকটি কার্যাবলী সাথে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা জড়িত থাকে ।

আরো জানুন………পরিকল্পনার যৌক্তিক কাঠামো বিশ্লেষণ

পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহ

পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সংস্থাগুলো সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা ভোগ করে এবং পরিকল্পনা পর্যায়ের কার‌্য সম্পাদন করে । সংক্ষিপ্তাকারে এসব সংস্থার কার্যাবলী বর্ণনা করা হলো –

১. জাতীয় সংসদ

১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনার সাধারণ দিক নির্দেশনা আসতো প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রী পরিষদ থেকে । তবে চূড়ান্ত আইন সম্মত কর্তৃপক্ষ ছিল জাতীয় সংসদ । ১৯৭৪-১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশে একদলীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রবর্তিত হওয়ায় সাধারণ দিক নির্দেশনা আসতো রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে । ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর থেকে দেশে সংসদীয় সরকার চালু হলে এই ক্ষমতা পূনরায় জাতীয় সংসদের উপর ন্যাস্ত হয় ।

২. পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহ

পরিকল্পনা প্রণয়ন , বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের দায়িত্ব সাংগঠনিকভাবে মন্ত্রণালয়ের । এর অধীনে তিনটি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে-পরিকল্পনা কমিশন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং পরিসংখ্যান বিভাগ যথাক্রমে পরিকল্পনা প্রণয়ন , বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন এবং পরিসংখ্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত । তবে এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

৩. জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ( এনইসি )

পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় নীতি প্রণয়ন ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে এনইসি । এর প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী । দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করে মন্ত্রিপরিষদ, এনইসি নিচে উল্লেখিত কাজ সমূহ করে থাকে –

ক. পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা , বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি , অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়নে নির্দেশনা দান

খ. পরিকল্পনা কর্মসূচি ও নীতিমালা চূড়ান্তকরণ ও অনুমোদন

গ. প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি পর্যালোচনা

ঘ. আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ

ঙ. এনইসি কে সহযোগিতা করতে প্রয়োজনীয় কমিশন গঠন

৪. জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটি ( একনেক)

একনেক হলো এনইসি কর্তৃক নির্ধারিত নীতি বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ পরিষদ । বৈদেশিক অনুদানের প্রকল্প ছাড়া অন্যান্য প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় একনেক । একনেকের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী । একনেক নিম্মোক্ত কার্যাবলি সম্পাদন করে-

ক. সকল প্রকল্প পত্রের বিবেচনা ও অনুমোদন

খ. বেসরকারি খাতের বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন

গ. প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা

ঘ. বিনিয়োগ প্রস্তাব বিবেচনা ও অনুমোদন

ঙ. অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পরীক্ষণ ও পর্যালোচনা

৫. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

পরিকল্পনা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ ও সমন্বয় করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় । বাস্তবায়ন, তদারকি এবং মূল্যায়ন বিভাগ পরিকল্পনা বিভাগ, বহি: সম্পদ বিভাগ , পরিসংখ্যান বিভাগ নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় গঠিত ।

৬. পরিকল্পনা কমিশন

পরিকল্পনা কমিশন কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা সংস্থা হিসেবে কাজ করে । এর প্রধান হলো প্রধানমন্ত্রী । পরিকল্পনা পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় পরিকল্পনা কমিশন তিন ধরনের দায়িত্ব পালন করে -আদেশ মূলক ,নির্বাহী মুলক ,ও সমন্বয় মূলক ।পরিকল্পনা কমিশনের কাজকে সামগ্রিকভাবে নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করা যায় –

ক. ৫ বছর মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন

খ. পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নীতিসমূহ প্রণয়ন

গ. প্রতিবেদন প্রস্তুত ও পেশ করা

ঘ. অর্থনৈতিক গবেষণা

ঙ. খাত ,উপখাত, কৌশল ও কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় করা ।

৭. পরিসংখ্যান বিভাগ

সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার অগ্রগতি পর‌্যালোচনা এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে পরিসংখ্যান বিভাগ । সাধারণ ভাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় পরিসংখ্যান পরিষদ পরিসংখ্যান ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করে

৮. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ

অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্পর্ক বিভাগ কারিগরি সাহায্য পাওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশের সাথে আলাপ আলোচনা করে এবং চুক্তি সম্পাদন করে । এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ।

৯. বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান

গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণা মূলক প্রতিষ্ঠান । বাংলাদেশের উন্নয়ন সমস্যা বিশ্লেষণ, গবেষণা পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দান এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কাজ ।

বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সমস্যা

পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পিছনে অনেকগুলো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক প্রভাব জড়িত । এগুলো হলো-

১. প্রথাগত পরিকল্পনা কৌশল

বাংলাদেশের প্রথাগত ও সনাতন পরিকল্পনা কৌশল ব্যবহারের কারণে উন্নয়ন ব্যর্থ হচ্ছে ।

২. স্থানীয় পর্যায়ের জনগণের অংশগ্রহণের অভাব

অবাধ ক্ষমতা কাঠামোতে যাদের নামে উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হচ্ছে তাদের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব না থাকায় উন্নয়ন ব্যর্থ হচ্ছে৷

৩. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব

প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলগুলোর পরস্পরের আস্থার অভাব, অসহযোগিতামূলক আচরণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করে ।

৪. সম্পদের অপ্রতুলতা ও অত্যাধিক বৈদেশিক নির্ভরতা

বাংলাদেশ স্বাভাবিকভাবেই বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর । আমরা দাতাদের কথায় এমন কিছু নীতি যার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলাফল যথেষ্ট খারাপ ।

৫. উন্নয়ন প্রকল্প নির্বাচন ,প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সমস্যা

স্থানীয় অথবা জাতীয় ভিত্তিতে যেসব প্রকল্প গৃহীত হয় তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না । মূলত, প্রকল্প নির্বাচনে অপারদর্শিতা ও যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় ।

৬. পরিকল্পনা দলিলে বারবার রদবদল

পরিকল্পনা বাজেট, কৌশল ইত্যাদি বারবার সংশোধনের কারণে পরিকল্পনা দুর্বল হয়ে যায় । ফলে যথাযথ ভাবে বাস্তবায়িত হয় না ।

৭. উন্নয়ন পরিকল্পনায় শহরমুখীতার প্রভাব

পরিকল্পনার ক্ষেত্রে শহরকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় । গ্রামীণ উন্নয়নের কথা বলা হলেও গ্রামবাসীদের চাহিদা কখনো যাচাই করে না পরিকল্পনা কমিশন ।ফলে সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় ।

৮. প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অঙ্গীকারের অভাব

উন্নয়ন পরিকল্পনার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় ,বণিক গোষ্ঠীর স্বার্থকে সংকোচিত করে গরিব শ্রেণির উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় না ।

৯. প্রশাসনিক অদক্ষতা, ব্যর্থতা

প্রশাসনের সর্বত্র অদক্ষতা , সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাব, দুর্নীতি ইত্যাদি রাষ্ট্রযন্ত্রকে এমন ভাবে আক্রান্ত করেছে যে পরিকল্পনার সাথে বাস্তবের মিল পাওয়া যায় না ।

১০. সংস্থা সমূহের কাজে স্বাধীনতা ও সক্ষমতার অভাব

স্বাধীনতার পর যে পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয়েছিল , সময়ের পরিসরে গুরুত্ব ও মর্যাদা যেমন হ্রাস পেয়েছে , তেমনি কমিশনের প্রতি আস্থা দিন দিন কমেছে । রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না । ফলে উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হয় ।

বাংলাদেশের পরিকল্পনা ব্যবস্থা

100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It