মিডিয়া লিটারেসি কী । মিডিয়া লিটারেসির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

তানজিনা আলম

মিডিয়া লিটারেসি কী

মিডিয়া লিটারেসি একটি পরিভাষা। এখানে দুটি শব্দবন্ধ রয়েছে। একটি হলো Media বা গণমাধ্যম, অন্যটি হলো Literacy বা সাক্ষরতা।

গণমাধ্যম বলতে বোঝায় যোগাযোগের এমন একটি ব্যবস্থা,যার মাধ্যমে একটি বিপুল সংখ্যক দর্শক বা শ্রোতার কাছে তথ্য এবং বিনোদন পৌঁছে দেয়া যায়। যেমনঃ সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, ম্যাগাজিন,সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্যাদি। (A way of communicating information or providing entertainment to larger groups of people. Media can include TV, internet, newspapers, magazines, social media and news portal and so on)

আর সাক্ষরতা বলতে বোঝায় একটি বিশেষ ক্ষেত্রে জ্ঞান, দক্ষতা বা বোঝার ক্ষমতাকে। (Knowledge, understand or skill in a specific area) অর্থাৎ মিডিয়া লিটারেসি

Advertisement
বা গণমাধ্যম সাক্ষরতা হলো বিভিন্ন রকমের মাধ্যম থেকে পাওয়া বার্তা বা তথ্যগুলো পাওয়া মাত্রই তা বিশ্বাস না করে তা সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সক্ষমতা অর্জন। (The ability to critically evaluate the various messages we receive from different forms of media)

“It is a series of communication competencies with the ability to access, analyze, evaluate and communicate in a variety of forms which can be print or non print messages. They find that media literacy allows people to be critical thinkers and creative in many messages like image, language, and sound. ” -National Association for media literacy education,যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংগঠনটির মিডিয়া লিটারেসি’র সংজ্ঞায়ন।

মিডিয়া লিটারেসি
মিডিয়া লিটারেসি

উদাহরণ :

ধরা যাক,একটি পত্রিকার শিরোনাম ছিল এরকমঃ “স্যানিটারী ন্যাপকিন ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে”

সময় এবং সুযোগের অভাবে শুধুমাত্র শিরোনাম পড়ার ফলেই ধরা যাক রহিমা বেগম(৫৫) নামের একজন কর্মজীবী নারী তার কন্যা সন্তানের স্যানিটারী ন্যাপকিন পু্ড়িয়ে ফেলেন এবং কাপড় ব্যবহার করতে বলেন।

এই ঘটনা বা তথ্য জানার ফলে রহিমা বেগম যেই সিদ্ধান্ত নিলেন তা আরও বিপদজনক। উপরোক্ত শিরোনামের ভেতরের সংবাদ হয়ত ছিলঃ অতিরিক্ত শোষন ক্ষমতা সম্পন্ন স্যানিটারী ন্যাপকিন বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যঝুকি বাড়ছে। এবং এই সমস্যা উত্তরণে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তার বিশদ বিবরণ।

কিন্তু কেবল মাত্র শিরোনামের তথ্য পুরোপুরি না জানার কারণে, যাচাই না করার কারণে,রহিমা বেগম তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তানকে সমূহ বিপদের দিকে ঠেলে দিলেন। একই সাথে তিনি যেভাবে জেনেছেন সেভাবেই আশপাশের প্রতিবেশীদের ও এই কথাটি জানিয়ে দিলেই শুধুমাত্র এইটুকু যাচাই বাছাই হীন তথ্য এ এলাকায় নারীদের কি ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিল তা বোধহয় অনুমান করলেও পরিতাপ হয়, কেন তিনি পুরো ঘটনা জানলেন না,সত্যতা যাচাই করলেন না। এর অজ্ঞতায় শুধু ব্যক্তি নন,বরং পরিবার, সমাজ ও দেশ এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে গোটা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এককথায়, যা দেখা কিংবা শোনা যায় তাঁর কতটুকু গ্রহণ করা যায় এই জ্ঞানটুকুই গণমাধ্যম সাক্ষরতা।

গণমাধ্যম সাক্ষরতার উদ্দেশ্য হলো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের গণমাধ্যম থেকে যেসব বার্তা পাই সেগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। গণমাধ্যম কিভাবে মানুষের অনুধাবন ও বিশ্বাসগুলোকে ফিল্টার করে কিভাবে জনপ্রিয় সংস্কৃতি রূপ দেয় এবং তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ গুলোকে প্রভাবিত করে তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে গণমাধ্যম সাক্ষরতা। গণমাধ্যম সাক্ষরতার ধারণাটি চারটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো হলো-

1 . গণমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ,

2 . বার্তা বিশ্লেষণ দক্ষতা ,

Advertisement

3 . মূল্যায়ণ ক্ষমতা এবং

4 . বার্তা তৈরীর সক্ষমতা।

আরো জানুন……….নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গণমাধ্যমের উন্নয়নের দিকসমূহ

এ কারণেই ইউনেস্কো গণমাধ্যম সাক্ষরতার যে সংজ্ঞা দিয়েছে তাতে সৃজনশীল বার্তা তৈরীর দক্ষতা এবং সমাজের সার্বিক দিকের উপর এর প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী প্রচলিত গণমাধ্যম এর পাশাপাশি ইন্টারনেটের মহাসমুদ্রে অবাধে প্রবেশ করছে। এসব গণমাধ্যম থেকে প্রতিদিন নিজেরা যেমন বার্তা পাচ্ছে,তেমনি বার্তা প্রকাশ বা প্রচার করছে। বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরীরা তাদের অগণিত সময় গণমাধ্যমের পেছনে ব্যয় করছে। একজন কিশোর-কিশোরী অনেক বেশি সময় কাটায় মোবাইল নিয়ে কিংবা টেলিভিশনের সামনে অথবা ভিডিও গেমস নিয়ে ব্যস্ত থাকার মধ্য দিয়ে। কিশোর-কিশোরী কিংবা তরুণদের যাপিত জীবনের বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা করলে এটি পরিষ্কার হয়ে উঠে যে,মিডিয়া তাদের জীবনে কতটা প্রভাব রাখে।

পাঠক বা দর্শক শ্রোতার চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান বা দখলের ওপর নির্ভর করে তাদের মিডিয়া লিটারেসি

১) Accessing Media: মিডিয়ায় প্রবেশের সক্ষমতা

২) Analyzing Content : মিডিয়া প্রদত্ত আধেয় বা বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের ক্ষমতা

৩) Being Able to Evaluate Messages : মিডিয়ার বার্তা মূল্যায়ন করতে সক্ষম

৪) Being Able to create media for self expression and communication : মিডিয়াকে নিজেকে প্রকাশ বা যোগাযোগের জন্য যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে /তৈরী করতে পারা।

গনমাধ্যমে প্রাপ্ত যেকোন বার্তা পাঁচটি প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা সম্ভব।

১) কর্তৃপক্ষ(Author)

কে বা কারা এই বার্তাটি তৈরি করেছে (Who made this message)

২) দর্শক শ্রোতা বা পাঠক(Audience)

এই বার্তাটি কোন ধরনের দর্শক বা পাঠকের জন্য তৈরী করা হয়েছে (Who is the target audience for this content)

৩) আধেয় বা বিষয়বস্তু (Content)

কোন ধরনের বার্তা দেয়া হচ্ছে অথবা এগুলো আসলে কি সত্য, না বানোয়াট (What values or opinions are represented in this message,Is this message true)

৪) উদ্দেশ্য( purpose)

এই বার্তার উদ্দেশ্য কি (What is the purpose of this message)

৫) মাধ্যম বা ধরন (Format)

কোন ধরনের মাধ্যমে এটি মনোযোগ আকর্ষণ করছে এবং কেন( What has been done to get my attention)

লেখক : শিক্ষার্থী

মাস্টার্স

জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্ট্যাডিজ বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It