যোগাযোগ পরিকল্পনার ধাপ |Stages communication Planning

যোগাযোগ পরিকল্পনার ধাপ সমূহ


যোগাযোগ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে কতগুলো স্তর বা ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। লক্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে যোগাযোগ পরিকল্পনা স্তরের দুইটি দিক আছে। যার উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা স্তরের সংযোজন অথবা বিয়োজন করতে হয়। এ দুটি দিক হল –


১. পরিকল্পনার আওতা 
২. যোগাযোগ পরিকল্পনার দৃষ্টিভঙ্গি 

Advertisement

১. পরিকল্পনার আওতা 


পরিকল্পনাটি জাতীয় যোগাযোগ পরিকল্পনা নাকি পরিকল্পনাটি বিভাজিত যোগাযোগ পরিকল্পনা। অর্থ্যাৎ, পরিকল্পনাটি বিশেষ কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য গৃহীত হচ্ছে। 


২. যোগাযোগ পরিকল্পনার দৃষ্টিভঙ্গি
দৃষ্টিভঙ্গি নানান ধরনের হতে পারে। যেমন –


১.পদ্ধতিগত দৃষ্টিভঙ্গি 
২. প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি
৩. অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি 
৪. প্রক্রিয়াগত দৃষ্টিভঙ্গি
৫. মূল্যায়নগত দৃষ্টিভঙ্গি


উল্লিখিত দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে যোগাযোগ পরিকল্পনার স্তর বিন্যাস করা হয়। 
Sankaran Ramanathan পরিকল্পনার ৪ টি যৌক্তিক (Logical) স্তরের কথা বলেছেন। এগুলো হল –


১. বিষয় সন্ধান (Fact Finding) 
২. পরিকল্পনা এবং কার্যবলী (Planning and Programming) 
৩. কার্যক্রম এবং যোগাযোগ (Action and Communication) 
৪. মূল্যায়ন (Evaluation)

Learn More….. কমিউনিটি রেডিও নীতিমালা ২০০৮

Certer এবং Walse যোগাযোগ পরিকল্পনার স্তর সমূহকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। 



তবে যোগাযোগ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নিচের ধাপসমূহ অনুসরণ করতে হয়। 


১. লক্ষ্য( Goal)
২. উদ্দেশ্য 
৩. কৌশল নির্ধারণ
৪. কার্যাবলী 
৫. বাজেট
৬. সময়
৭. এলাকা
৮. ঝুঁকি নির্ণয় 
৯. পরীক্ষা
১০. পুনঃ নকশাকরণ

যোগাযোগ পরিকল্পনার ধাপ

যোগাযোগ পরিকল্পনার ধাপ

১.লক্ষ্য (Goal) 
যোগাযোগ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকবে। আর লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করা হয়। লক্ষ্য বলতে বোঝায়, পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত কতদূর যাবে বা কী কী করা হবে তা নির্ধারণ করা। একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হতে পারে কোন বিশেষ ব্যাপার, প্রতিটি মানুষকে যোগাযোগ সুবিধা দেওয়া। 
তিনটি পরিপ্রেক্ষিতের উপর লক্ষ্যের ধরন নির্ভর করে। যেমন – 
প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের চাহিদা
ভোক্তার চাহিদা
প্রতিষ্ঠানের কর্মক্ষমতা ও দুর্বল দিকের মূল্যায়ন 
ক্ষুদ্র সংগঠনের লক্ষ্য যথা সম্ভব সুনির্দিষ্ট রাখা উচিত, লক্ষ্য নির্ধারনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বিবেচনায় রাখতে হবে। 
লক্ষ্য দু ধরনের হতে পা। যথা-

ব্যাপক লক্ষ্য
এটা সাধারণত সরকার নির্ধারণ করে। যেমন- ভিশন -২০২০ অর্জন করা
অর্জন যোগ্য লক্ষ্য 
অল্প সময়ের মধ্যে অর্জনের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তা হচ্ছে অর্জন যোগ্য লক্ষ্য। যেমন- 
২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে 4G প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা।

২. উদ্দেশ্য Object
যে কোন প্রতিষ্ঠানেরই যে কোন কর্মসূচীর নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। উদ্দেশ্য লক্ষ্যের চেয়ে আরো বেশি সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যেমন-
মাদকাসক্তির কারণ চিহ্নিত করা,
কোন শ্রেণির মানুষ মাদক বেশি ব্যবহার করে।

Advertisement


৩. কৌশল নির্ধারণ( Strategy) 
পরিকল্পনার জন্য কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। মিডলটনের মত, যোগাযোগ কৌশল হচ্ছে চ্যানেল ও কর্তার একটি নির্দিষ্ট সমন্ব, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট অডিয়েন্সের কাছে পৌছানোর জন্য পরিকল্পিত হয়ে থাকে।

কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়সমূহ বিবেচনায় রাখতে হবে। 


১. অর্থনৈতিক সামর্থ 
২. লোকবল
৩. পূর্ব অভিজ্ঞতা
৪. মাধ্যম বাছাই
৫. সময়
৪. কার্যাবলী (Activists) 


লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজের তালিকা তৈরি করতে হবে। কে, কখন, কীভাবে কাজ করবে ইত্যাদি। 

৪. কার্যাবলী


৫. বাজেট (Budge) 
কোন খাতে কত খরচ হবে তার বিবরণ দিতে হবে। কার্যাবলীর আলাদা বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। 


৭. এলাকা (Area)
কোন এলাকায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বা সার্ভিস পরিচালিত হবে তা উল্লেখ করতে হবে। 


৮. ঝুঁকি নির্ণয় 
পরিকল্পনা গ্রহণের সময় ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই পরিকল্পনার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার পদক্ষেপও নিতে হবে। 


৯. পরীক্ষা : Test 
সার্বিকভাবে কাজ চলছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন উৎস ও উপায় দিয়ে এটি করতে হবে। যেমন –


SOV ( Source of Verification) :
যে যে উৎস দেখে কাজটির মূল্যায়ন করা হয় তাকে SOV বলে। 


MOV (Means of Verification) : যে যে উপায়ে কাজটির উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করা হয় তাকে MOV বলে


১০. পুনঃ নকশাকরণ
ভালো প্রজেক্টের ক্ষেত্রে পুনঃনকশার সুযোগ রাখা হয়, কোন কারণে যদি পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয় তাহলে যেন পুনরায় নকশা করা যায়।

100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It