সম্পাদকীয় ইতিহাস । History of Editorial

তাসলিমা ইরিন

সম্পাদকীয় ইতিহাস History of Editorial

মতামত সাংবাদিকতা তথা সম্পাদকীয় এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (A Short History Editorial)

Advertisement

এ ক্ষেত্রে শুরুতেই প্রাসঙ্গিক কয়েকটি সংজ্ঞা পর্যালোচনা করা যাক:

সংবাদ (News)

সংবাদ বলতে জনসাধারণের আগ্রহ থাকতে পারে এমন কোন তাৎক্ষণিক তথ্যকে বোঝায়, যা স্বাধীন ও স্বনামধন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সংবাদ – কেন্দ্রিক প্রক্রিয়ার বিষয়বস্তু হওয়ার বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।

মতামত (Opinion)


কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কারও মাথায় যখন কোন দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত বা ঐক্যমত গঠিত হয় তখন তাকে মতামত বলে।

স্পষ্ট ধারণা দিতে এখানে বলে রাখা ভালো, একটি সংবাদ প্রতিবেদনে প্রায়শ’ই বিশেষজ্ঞ, সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে এসব দিয়ে “মতামত সাংবাদিকতা”র প্রকৃত অর্থ নিরূপণ করা সম্ভব নয়। প্রত্যক্ষদর্শী অথবা সাক্ষীদের মতামতের গুরুত্বের ব্যাপারে ইঙ্গিত দেওয়াও এই পাঠের উদ্দেশ্য নয়। সেসব মতামত সাধারণত সাংবাদিকতা ও মতামত সাংবাদিকতায় উক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

মতামত সাংবাদিকতা ও সংবাদ প্রতিবেদন তৈরীর ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রসঙ্গে এমন জটিল নীতিমালা সবসময় ছিল না।

সম্পাদকীয় ইতিহাস
সম্পাদকীয় ইতিহাস

সম্পাদকীয় ইতিহাস History of Editorial

১৮০১ সালে আলেক্সান্ডার হ্যামিলটন দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের যাত্রা শুরু করেন। এটি কার্যক্রম শুরু করে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যেখান থেকে ফেডেরালিস্ট পার্টি তাদের মতবাদসমূহের যৌক্তিকতা দাবী করতো, এমনকি থমাস জেফারসনের উপর আক্রমণসমূহের ব্যাপারেও ।

এবং এটি ব্যতিক্রম ছিলো না। সেই সময়ের মার্কিন প্রেস সর্বদাই মতামত এবং দলীয় আক্রমণ দ্বারা পরিপূর্ণ ছিলো। ১৯শ শতাব্দীর প্রাক কালের আগ পর্যন্ত সংবাদপত্রগুলো প্রায় সময়ই রাজনৈতিক দলগুলোর পৃষ্টপোষকতার উপর নির্ভরশীল থাকতো ।

১৮৩০ সালের দিকে, বেনজামিন ডে নামক একজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী অনুধাবন করেন যে, যদি কেউ একটি সস্তা সংবাদপত্র বের করেন, তাহলে আরও বেশী পরিমাণ মানুষ সেটি কিনবে।

Advertisement

অর্থাৎ, সেক্ষেত্রে সে বিজ্ঞাপন দাতাদের কাছ থেকে তাদের বিজ্ঞাপন ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে আরও বেশী টাকা দাবী করতে পারবে।

ডে এর “নিউইয়র্ক সান” ছিলো সে সময়ের প্রথম সস্তা সংবাদপত্র এবং এর সাফল্য দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ধারণায় জোয়ার নিয়ে আসে।

মার্কিন প্রেস, নিরপেক্ষতার এই ধারণাকে সত্য ও অন্তর্নিহিত অর্থের খোঁজে আমাদের অনুসন্ধানে একটি মহৎ ধাপ হিসেবে গ্রহণ করে নি। বরং এটি ছিলো একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।

এর আগপর্যন্ত সংবাদপত্রগুলো ছিলো শুধুই নির্দিষ্ট পণ্য। রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য পূরণের জন্য ও দলের অনুসরণ কারীদের পাঠের উদ্দেশ্যে যা ছাপা হত। কিন্তু এর পরিসর আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে, দলীয়করণের ধারণা থেকে সরে আসার মাধ্যমে, পরিসর সৃষ্টি হয় আরও বেশী অর্থ উপার্জনের।

১৮৪১ সালে হোরেস গ্রিলী “নিউইয়র্ক ট্রিবিউন” গড়ে তোলেন। মতামত লিখনী থেকে সংবাদ প্রতিবেদন তৈরীর পদ্ধতি উদ্ভাবন ও প্রথমবারের মত নিজ পত্রিকায় মতামত প্রকাশের কৃতিত্ব দেওয়া হয় পত্রিকাটিকে।

তিনি ওই নির্দিষ্ট পাতাটিকে “সম্পাদকীয় পাতা” নামে চিহ্নিত করেন এবং আমেরিকান সংবাদপত্রগুলো তৎক্ষনাৎ আইডিয়াটি গ্রহণ করে। এখন পর্যন্ত যা সংবাদপত্রগুলোতে প্রচলিত এবং ইংরেজী পত্রিকাগুলিতে মতামত প্রকাশের পৃষ্ঠাটি সাধারণত “Opinion” নামে চিহ্নিত থাকে।

আরো জানুন…….সম্পাদকীয় প্রকারভেদ । সম্পাদকীয় কত প্রকার ও কী কী

গ্রিলী’র এই উদ্ভাবনের সাথে “সম্পাদকীয়” ধারণার জন্ম হয়। সাধারণত যা বলতে বোঝায় কোন পত্রিকার প্রাতিষ্ঠানিক মতামতের বক্তব্যকে ।

যখন পত্রিকাগুলো দল বা গোত্র নিয়ন্ত্রিত ছিলো, তখন সম্পাদকীয় গুলোর কোন না কোন সম্প্রদায়ের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ( ভালো বা খারাপ ) সম্পর্ক ছিলো।

১৯ শতকের শুরুর দিকে, কিছু নির্দিষ্ট লেখককে সব সময়, লেখার জন্য পত্রিকায় বিশেষ স্থান ছেড়ে দেওয়া হতো। অনেক সময় লেখার উপর লেখকের ছবি দিয়ে বুঝানো হতো যে এটি তাদের মতামত। কোন সংবাদ প্রতিবেদন নয়।

বিখ্যাত সংবাদপত্রগুলোর কলামগুলো শুরুই হতো রসবোধ সম্পন্ন কবি ফ্র‍্যাঙ্কলিন পি. অ্যাডামসের মত লেখকদের লেখনী দিয়ে। ১৯২০ সালে যা ছাপা হত “নিউইয়র্ক ট্রিবিউন” এ। পরবর্তীতে ৩০ ও ৪০ এর দশকে একইভাবে ছাপা হতো এইচ এল মেনকেন এর লেখা।

১৯২০ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে লেখালেখি করে যাওয়া বিখ্যাত কলামিস্ট ওয়াল্টার উইনচেল প্রায় ২০০০ সংবাদপত্রের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাঠক প্রতিদিন তাঁর লেখা পড়তেন।

সম্পাদকীয় লেখার এই ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছেন জর্জ উইল, থমাস ফ্রিডম্যান এবং গেইল কলিনসের মত লেখকরা।
এভাবে মার্কিন থেকে মতামত সাংবাদিকতার ধারণা পৌঁছে গেছে বিশ্বের সকল দেশে। এরই আদলে পত্রিকা গুলোতে স্থান পেয়েছে সম্পাদকীয় পাতা। আর এর গুরুত্ব সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলার নেই।

লেখক: শিক্ষার্থী
এমএমএস ( ২২ তম ব্যাচ )
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It