সাংস্কৃতিক বহুত্ব কী । What is Cultural Plurality

সাংস্কৃতিক বহুত্ব কী what is Cultural Plurality

Advertisement

সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিতবহ একটি উপাদান। অতীতকাল থেকে আজ পর্যন্ত সকল যুগে এবং বিশ্বের সকল মানব সমাজে স্বতন্ত্র সংস্কৃতির সন্ধান পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে সংস্কৃতি হলো মানুষের একক মাধ্যম বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে মানুষ জীব জগতে স্বতন্ত্র মর্যাদায় সমীহীন হয়েছে।

তারপরও বহুকাল ধরে বহু চিন্তাবিদ এই ধারণা ব্যক্ত করে আসছেন যে বহুত্বই হলো প্রকৃতির নিয়ম।এই মূলভাবটাকে কেন্দ্র করেই বহুত্ববাদের দার্শনিক, সমাজবৈজ্ঞানিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, এবং সাংস্থতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

রাজনৈতিক বা সামাজিক বহুত্ববাদের পরিচয় পাই কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রাধান্য ব্যতিরেকে বহু রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠীর সহাবস্থানের ধারায় বা তার বাস্তব অতিত্ত্বে। তবে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন রকম সংস্কৃতির মিশ্রণ বা প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা সহাবস্থানের জন্য সংস্কৃতিকে সুনির্দিষ্ট অর্থে সংস্কৃতিক না বলে সংস্কৃতিসমূহ বলা প্রয়োজন। আর সংস্কৃতিসমূহ কথা বললেই চলে আসে সাংস্কৃতিক বহুত্ব।

সাংস্কৃতিক বহুত্ব কী

একটি গোষ্ঠী বা সমাজের কেবল একটি নির্দিষ্ট রীতি বা নির্দিষ্ট সংস্কৃতি নেই।একটি গোষ্ঠীর যে বিভিন্ন জাতি বা কালপর্ব, নির্দিষ্ঠ ও পরিবর্তনশীল সংস্কৃতি রয়েছে,তা নয়।একটা জাতির বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীরও নির্দিষ্ট ও পরিবর্তনশীল সংস্কৃতি আছে। অন্তত এ থেকেই সাংস্কৃতিক বহুত্ব ব্যাপারটার একটা ধারণা পাওয়া যায়।

সাংস্কৃতিক বহুত্বের প্রসঙ্গে রেসন্ড উইলিয়ামসের বলেছেন ,অনেক গুলি পৃথক পৃথক বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে এবং অনেক গুলো স্বতন্ত্র পরস্পর বিরোধী চিন্তাপ্রনালীর গুরুত্বপূর্ণ ধারায় ব্যবহার হচ্ছে Culture নামক শব্দটি ।

তবে সংস্কৃতি না বলে উইলিয়ামস সংস্কৃতিসমূহ বলতে বলেছেন, কেন না প্রত্যেকটি সামাজেই এক বা একাধিক গোষ্ঠীর নির্দিষ্ট ও পরিবর্তনশীল সংস্কৃতি রয়েছে।

সাংস্কৃতিক বহুত্ব
সাংস্কৃতিক বহুত্ব

ইতিহাসে যে সাংস্কৃতিক বহুত্বের পরিচয় দেখা যায় এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই কোন ইতিহাস বা সমাজবিজ্ঞানীদেরও।কোনো সংস্কৃতি এমন কিছু ধারণা, উপাদান বা আচার সংশ্লিষ্ট বা অন্য সংস্কৃতির সাথে তুলনায় একদমই স্বতন্ত্র। কোন কোন সমাজের লোকের যে ব্যাপারে অসাধারণত্ব বা নৈপুণ্যের পরিচয় দেয় অন্য সমাজ বা সংস্কৃতির লোকের তখনও এই ব্যাপারে অজ্ঞ।

মেক্সিকো ও পেরুতে প্রায় সমসাময়িক সময়ে কৃষিকাজের উদ্ভব হলেও, পেরুর প্রধান খাদ্য আলু হলেও মেক্সিকানরা তখনও আলু চিনতো না।সেনিটিকরা যখন ঘোড়াকে তাদের প্রধান গৃহপালিত জন্তু করলো তখন সুমেরীয়রা ঘোড়াই চিনত না।অবার সাহিত্যের কাতারে বলা যায় গ্রীক সাহিত্য যখন বিয়োগান্তক অনুভূতি ডেকে আনলো তখন সংস্কৃতিতে বিয়োগান্ত আবেগ তখনও স্পর্শ পায়নি। ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীত কেউ পছন্দমতো করলেও, কেউ কেউ হেভি মেটাল, জাজ বা রক পছন্দমতো করেন।

আরো জানুন………..সংস্কৃতি কী । What is Culture

সুশৃঙ্খল ভাবে সমাজ পরিচালনা করতে গিয়ে নিজের যুক্তি সম্পর্কে আস্থা থাকা হয়তো আবশ্যক । কিন্তুু একটা পর্যায়ে সমষ্টিগত হয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠতে পারে। তখন আর সবকিছু বাদ দিয়ে নিজের সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস স্থাপনের ঝোঁক দেখা যায়।

খ্রিষ্টপৃর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস বলেন ” পৃথিবীর তাবৎ প্রথা থেকে কাউকে বেছে নিতে বললে এক এক করে সে সবগুলো দেখখে, কিন্তুু শেষ পর্যন্ত সে তার নিজেটাই পছন্দ করবে “।

সাধারণত কোনো উপনিবেশের মানুষেরা নিজেদের ভিন্নতাকে বড়ো করে তোলে।জীবনকে পৃথক দিকগুলোর সংযোগই সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে । এবং সময়টা নষ্ট করে না বলে এর কোনো অংশই খাটো করা যায় না। এসব জনগণের জন্য অপরিহার্য নয়।

অনেকের কাছে সংস্কৃতির ভিন্নতা কেবল নৃতাত্বিক জিজ্ঞাসা বা কৌতুহলের বিষয়। সাংস্কৃতিক ভিন্নতা অনেক ক্ষেত্রেই সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে জয় করার লক্ষ্যবস্তুু থেকে পর্যটকের দর্শনীয় জিনিসে পরিনত হয়েছে।স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে তার বিস্ময়যোগ আচার ব্যবহার, যা শিহরণ জাগ্রতকারী এবং সহনীয় রকম মনোহর।

Advertisement
100% LikesVS
0% Dislikes

Write a Comment

Share It